কৃষক বন্ধু form PDF | কৃষকবন্ধু প্রকল্প কী? কারা পাবেন টাকা, ও কিভাবে আবেদন করবেন | Krishak Bandhu Scheme West Bengal
প্রিয় বন্ধুরা,
পশ্চিমবঙ্গের কৃষিজীবী মানুষের আর্থিক স্থায়িত্ব ও সার্বিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার 'কৃষক বন্ধু' (Krishak Bandhu Scheme) নামের এই যুগান্তকারী প্রকল্পটি পরিচালনা করে আসছে। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব কৃষক বন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা কী কী সুবিধা পান, কীভাবে এই প্রকল্পে নতুন আবেদন করতে হয় এবং প্রকল্পের টাকা কবে অ্যাকাউন্টে ঢোকে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প আসলে কী?
কৃষক বন্ধু প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক উদ্যোগ। চাষাবাদের জন্য কৃষকদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া এবং কোনো কৃষকের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করাই হলো এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। যোগ্য কৃষকদের বছরে দুটি কিস্তিতে (খরিফ ও রবি মরশুমে) সর্বাধিক ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি রয়েছে ডেথ বেনিফিটের সুবিধাও।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের মূল সুযোগ-সুবিধা
এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা মূলত তিন ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন:
- যাঁদের ১ একর বা তার বেশি পরিমাণ নিজস্ব চাষযোগ্য জমি রয়েছে, তাঁরা বছরে সর্বাধিক ১০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান।
- যাঁদের জমির পরিমাণ ১ একরের কম, তাঁদের আনুপাতিক হারে বছরে ন্যূনতম ৪,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
- ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনো নথিভুক্ত কৃষকের অকাল মৃত্যু ঘটলে, তাঁর পরিবার বা বৈধ উত্তরাধিকারীকে এককালীন ২ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
কারা এই অনুদান পাবেন? (আবেদনের যোগ্যতা)
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে হলে আবেদনকারীকে নিচের শর্তগুলো মানতে হবে:
- আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের একজন স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- পেশায় একজন কৃষক হওয়া বাধ্যতামূলক (নিজের জমি থাকা কৃষক অথবা সরকারিভাবে নথিভুক্ত ভাগচাষি উভয়েই যোগ্য)।
- আবেদনকারীর নামে একটি বৈধ এবং সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
নতুন আবেদনের জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
নতুন করে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে যুক্ত হতে চাইলে নিচের নথিপত্রগুলি সঙ্গে রাখতে হবে:
- চাষযোগ্য জমির বৈধ প্রমাণপত্র (যেমন- জমির পর্চা, পাট্টা, বর্গা রেকর্ড কিংবা বনবিভাগের পাট্টা)।
- আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ড।
- ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স অথবা একটি ক্যানসেল্ড চেক।
- আধার কার্ড ও ব্যাঙ্কের সাথে লিঙ্ক করা একটি চালু মোবাইল নম্বর।
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
মৃত্যুজনিত সহায়তার (Death Benefit) জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
মৃত কৃষকের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য নিচের ডকুমেন্টগুলি জমা করতে হয়:
- মৃত কৃষকের যেকোনো একটি সচিত্র পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট (Death Certificate)।
- সংশ্লিষ্ট বিডিও (BDO) অফিস থেকে নেওয়া বৈধ উত্তরাধিকারীর শংসাপত্র।
- মৃত কৃষকের জমির রেকর্ড বা ROR।
- উত্তরাধিকারীর দ্বারা সঠিকভাবে পূরণ করা নির্দিষ্ট আবেদনপত্র।
কীভাবে কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করবেন?
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ। নিচে ধাপে ধাপে তা আলোচনা করা হলো:
- প্রথমে আপনার নিকটবর্তী 'দুয়ারে সরকার' ক্যাম্প অথবা ব্লক কৃষি দপ্তরে (BDO/ADA Office) যোগাযোগ করুন।
- সেখানকার নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের ফাঁকা ফর্মটি সংগ্রহ করুন।
- ফর্মটিতে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে উপরে উল্লেখিত নথিপত্রগুলির জেরক্স কপি ফর্মে সংযুক্ত করে সেখানেই জমা করে দিন।
প্রকল্প সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য কোনো টাকা লাগে না, প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
- অনুদানের টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Direct Benefit Transfer) পাঠানো হয়।
- আবেদন করার পর ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করা যায়।
- ফর্মে কোনো তথ্য ভুল থাকলে পরবর্তীতে তা সংশোধন করার সুযোগও থাকে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা কবে অ্যাকাউন্টে ঢোকে?
এই প্রকল্পের অনুদান বছরে দুটি সমান কিস্তিতে কৃষকদের দেওয়া হয়। খরিফ মরশুমের প্রথম কিস্তির টাকা সাধারণত এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, রবি মরশুমের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়।
কৃষক বন্ধু ফর্ম ডাউনলোড PDF ও কৃষক বন্ধু স্ট্যাটাস চেক করুণ
| Description | Link |
|---|---|
| কৃষক বন্ধু ফর্ম PDF (Form Download) | Download Here |
| কৃষক বন্ধু স্ট্যাটাস চেক (Status Check) | Check Now |

No comments:
Post a Comment
Note: only a member of this blog may post a comment.